বেগম খালেদা জিয়ার সাথে আমার স্মৃতি
// মোহাম্মদ মাহবুব হোসাইন //
২০০৮ সালের আগষ্টের শুরুতে ভারত কতৃক টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের প্রতিবাদে দেশ তখন আন্দোলন মুখর। রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি আমরাও সামাজিক সংগঠনের সমন্বয়ে টিপাইমুখ বাঁধ প্রতিরোধ আন্দোলন নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করে টিপাইমুখ বাঁধ অভিমুখে ৮-১০ আগষ্ট ২০০৮ লংমার্চ ঘোষণা করা হয় ।
এই সংগঠনের সভাপতি ছিলেন এডভোকেট আবেদ রাজা ও সদস্য সচিব হিসেবে আমি দায়িত্ব পালন করি।
লংমার্চ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে মতবিনিময়ের এক পর্যায়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদে জিয়ার সাথে ০৬ আগষ্ট ২০০৮ বৈঠক নির্ধারিত হয়।
যথা সময়ে চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে আমরা উপস্থিত। সেখানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সকল সদস্য যার যার আসন গ্রহণ করেছেন।
প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সকল প্রতিনিধিরা প্রস্তুত। সবাই বেগম খালেদা জিয়ার অপেক্ষায়।নির্ধারিত সময়ের ২ মিনিট পূর্বে তিনি আসলেন।
বিএনপি নেতা ইমরান সালেহ প্রিন্সের পরিচালনায় শুরু হলো সবার কার্যক্রম। যতটা মনে পরছে, দুজনের বক্তব্যের পরে আসে আমার পালা। আমার বক্তব্য চলাকালীন সময়ে চেয়ারপারসনের প্রেস সচিব মারুফ কামাল ভাই আমাকে সংক্ষেপ করার স্লীপ দেন। তখন ম্যাডাম মারুফ কামাল ভাইকে বললেন, ওকে বলতে দাও। ম্যাডামের কথা শুনে আমিতো রীতিমতো বক্তৃতায় আগুন ছড়ালাম।
সেই স্মৃতি আজ বার বার মনে পরছে। তিনি সবার কথাই শুনতেন এবং তরুনদের প্রতি তাঁর ছিলো অগাধ স্নেহ ও ভালোবাসা। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে ঐক্যের মূর্ত প্রতীক। জাতির এই সংকটময় সময়ে তাকে আমাদের খুব বেশি প্রয়োজন ছিল।
তাঁর প্রস্থানের মধ্যদিয়ে এক বর্ণাঢ্য সংগ্রাম মুখর জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটলো। এই মহীয়সী জাতির অভিভাবককে এদেশের মানুষ আজীবন স্মরণ করবে। মহান আল্লাহ আমাদের প্রিয়জন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার উপর রহম দান করুন।
লেখক: সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী।
কমেন্ট বক্স